ব্যাকটেরিয়াকে ‘আদি কোষ’ বলা হয় কেন?

ব্যাকটেরিয়াকে 'আদি কোষ'

ব্যাকটেরিয়াকে আদি কোষী বা আদি কোষ বলা হয়। কেন ব্যাকটেরিয়াকে আদি কোষ বলা হয় তা জানতে প্রথমেই আমাদের যা জানতে হবে সেটা হলো আদি কোষ কি!

*আদি কোষ*:

যে কোষে কোনো আবরণীবেষ্টিত নিউক্লিয়াস, এমনকি আবরণীবেষ্টিত অন্যকোনো অন্যকোনো অঙ্গাণুও থাকে না তা হলো আদি কোষ। আদি কোষ দ্বিভাজন বা অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়। এদের রাইবোজোম 70S। আদিকোষে নন-হিস্টোন প্রোটিনযুক্ত একটি মাত্র বৃত্তাকার DNA থাকে যা সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে অবস্থান করে।

এবার লক্ষ্য করি ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যের দিকে:

ব্যাকটেরিয়াতে কোনো ঝিল্লিবদ্ধ অঙ্গাণু থাকে না। এদের কোষে 70S রাইবোজোম থাকে। এদের বংশবৃদ্ধির প্রধান প্রক্রিয়া দ্বি-ভাজন। এদের বংশগতীয় উপাদান হলো একটি দ্বিসূত্রক, কার্যত বৃত্তাকার DNA অণু , যা ব্যাকটেরিয়াল ক্রোমোসোম হিসেবে পরিচিত।

ব্যাকটেরিয়ার এই বৈশিষ্ট্য গুলো আদি কোষ এর অনুরূপ হ‌ওয়ায় ব্যাকটেরিয়াকে আদি কোষ বলা হয়।

আরও সহজভাবে বলতে গেলে

ব্যাকটেরিয়ার কোষে থাকা নিউক্লিয়াসটি আদি প্রকৃতির বা সুগঠিত নয়। এতে কোনো নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম, নিউক্লিওপ্লাজম, এমনকি নিউক্লিওলাস পর্যন্ত নেই। শুধু ৭০s রাইবোজম ও একটি বৃত্তাকার DNA যুক্ত ক্রোমোজোম আছে, যা কোষের ভেতর মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়। আবার, এই ক্রোমোজোমে হিস্টোন নামক প্রোটিন না থাকায় একে সত্যিকারের ক্রোমোজোমও ঠিক বলা যায় না।

অন্যদিকে এর রাইবোজোম ছাড়া আর কোনো কোষীয় অঙ্গাণুই নেই। মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড— এগুলোর কোনো চিহ্নই নেই ব্যাকটেরিয়া কোষে।

ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরও উন্নত জীবের মত নয়, এতে মিউমেরিক, টিকোয়িক এসিড থাকে যা উন্নত উদ্ভিদ কোষে থাকেনা।

অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া কোষ আর কোনো মানুষের কোষকে যদি পাশাপাশি দেখেন, তবে দেখবেন মানুষের কোষের তুলনায় ব্যাকটেরিয়া কোষে তেমন কিছুই নেই। সোজা ভাষায় বললে ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে পুরনো মডেলের কোষ যাতে অনেক ফিচারই অনুপস্থিত। এজন্যই একে আদি কোষ বলে।