Home Bangla বিলাসবাবুর পীড়া

বিলাসবাবুর পীড়া

70
0

[হাস্যরস]

‘সাহিত্যিক’ তকমাটা বেশ সাম্মানিক হইলেও তাহা স্থান বিশেষে প্রযোজ্য বলিয়াই মনে হয়। গ্রাম-গঞ্জে কিংবা মফঃস্বলে মানুষজনের আবেগ অধিক হইলেও সাহিত্যচর্চা হেথায় একপ্রকার বাবুয়ানা বলিয়াই গন্য। ইহার মূলত দুইটি কারন। প্রথমত, এখানকার মানুষজন স্বাক্ষর হইলেও শিক্ষিত হয় নাই। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা এইখানে বৃহৎ অঙ্কের অর্থ ও সম্মান উপার্জনের মাধ্যম। আত্মতুষ্টির জন্য যে সাহিত্যচর্চা, তাহা হেথায় অদ্যাবধি প্রভাব বিস্তারে অক্ষম। বিলাসবাবুর দুর্ভাগ্য, তিনি মফঃস্বলের মানুষ। সাহিত্যিক হইবার সাধ থাকিলেও, বাস্তবে তাহা সাধ্যাতীত থাকিয়া যায়। বিলাসবাবু দেখিতে গেলে তেমন কোন কার্যই করেন না। বিশাল পৈত্রিক সম্পত্তি। জমিজায়গা ভাগচাষে দিয়া, আর তাহার লভ্যাংশ হইতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চলিয়া যায় বিলাসবাবুর। বিলাসবাবুর চাকুরি জোটেনি, সেইপ্রকার চেষ্টাও করেননি চাকুরি জোটানোর; শুধুমাত্র সাধের সাহিত্যচর্চা করিবেন বলিয়া। যদিও তাহার সাধের সাহিত্যচর্চা,নামমাত্র ‘সাহিত্যচর্চা’। বিলাসিতা করে যিনি উদয়াস্ত কাটান তিনি লেখেন গরিবির কথা। তাই স্থানীয় দু একটি পত্র পত্রিকাতে চেষ্টা করিলেও তাহার সৃষ্টি অপ্রকাশিত রহিয়া যায়। অবশ্য এর জন্য তিনি তাহার নিজ লেখার গুনগত মানের উপর কোনরূপ প্রশ্ন আনিতে নারাজ। তাঁর ধারনা,তাহার সৃষ্টির সমাদর করিবার মতন ব্যক্তির বড়ই অভাব এই এলাকাতে, তাই তাহার মতো গুনী সম্মান হইতে বঞ্চিত । অলসতাতে বিলাসবাবুর দ্বিতীয় মেলা ভার। কলস হইতে জল গড়াইয়া খাইবার জন্যেও গৃহের ভৃত্যকে আদেশ দিয়া থাকেন। এই হেতুবশত তাহার স্ত্রীর সহিত বিবাদ লাগিয়াই থাকে। বিলাসবাবু এতখানি অলস যে, বিবাদের প্রত্যুত্তর করিয়া শ্রম ব্যয় করিতেও তিনি ইচ্ছুক নন । বিলাসবাবুর স্ত্রী শ্যামাদেবী। কৃষ্ণবর্ণা, বিশাল কলেবরযুক্ত,বৎসর চল্লিশের মহিলা। দশভুজার ন্যায় গৃহ সামলান। সুনিপুণা এবং সকলের প্রতি স্নেহ, যত্ন ও খেয়াল যথেষ্ট। বিলাসবাবুর প্রতি তাহার একমাত্র ক্রোধের কারন বিলাসবাবুর অলসতা। অপরদিকে তিনি নিঃসন্তান এবং বিলাসবাবুর সন্তান নেওয়ার প্রতি কোনোরূপ ইচ্ছেও নেই। গাণ্ডেপিণ্ডে ভোজন এবং সাধের সাহিত্যচর্চার চেষ্টাতেই সমগ্রদিন অতিবাহিত করেন তিনি। অবশ্য তাহার দিনের প্রারম্ভ হইয়ে থাকে প্রায় মধ্যাহ্নে।
একদিন শ্যামাদেবীর সহ্যের সীমা অতিক্রম করিল। ক্রোধের বশবর্তী হইয়া বিলাসবাবুর পুরুষত্বে খোঁচা দিয়া বসিলেন। এতদিনে বিলাসবাবু খানিক নড়িয়াচড়িয়া বসিলেন। তথাপি তিনি নিরুত্তর থাকিবার স্বভাবটা অপরিবর্তিত রাখিলেন। শুধুমাত্র তাহার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হইয়া গেল। চোখদুটি ছল ছল করিয়া উঠিল। শ্যামদেবীও বুঝিতে পারিলেন তাহার ভুল,কিন্তু কিছুই না বলিয়া নীরব হইয়া রহিলেন। বিলাসবাবুর সেইদিন বড্ড খারাপ লাগিল। নিজের প্রতি ক্রোধ হইল তাহার। নিজেকে এইপ্রথম অকর্মন্য মনে করিলান তিনি। ভাবিলেন এই সংসারে থাকিয়া কোনো লাভ নাই, এ গৃহে তাহার কোন মর্যাদা নাই, বরং কলিকাতায় গিয়া লেখক হইবার প্রচেষ্টা করা উচিত, কারন এযাবতকাল বিলাসিতা ছাড়া অন্য কিছুই করেননি তিনি, তাই কোনরূপ শ্রম তাহার সাধ্যাতীত।
সেইদিন তিনি খাইতে পারিলেন না, রাতেও ভাল নিদ্রা হইল না তাহার। পরদিন সূর্যোদয়ের পূর্বেই কাহকে না জানাইয়া চুপিসারে গৃহত্যাগ করিলেন তিনি। সাথে বেশ কিছু টাকাপয়সা, কিছু পোশাক পরিচ্ছেদ আর কিছু খাদ্যরসদ। অনেকাল পূর্বে তিনি সূর্যোদয় দেখিয়াছিলেন। ভ্রমনেও বাহির হইয়াছিলেন শেষ কবে ঠিক মনে পড়েনা। অলসতা তাহাকে একপ্রকার বন্দী করিয়া রাখিয়াছিল। প্রায় সাড়ে তিন ক্রোশ হাঁটিবার পর রেলস্টেশন। যেখানে কলিকাতা যাইবার দুইটি ট্রেন। একটি দৈনিক, অপরটি সাপ্তাহিক। সাপ্তাহিক ট্রেনটি পাইবার কোন আশা ছিল না কারন সেই দিন ট্রেনটির জন্য ধার্য দিবস ছিল না। দৈনিক ট্রেনটি অপরাহ্ণে আসিবে। বিলাবাবু প্রভাত শেষ হইয়া বেলা শুরু হইতে না হইতেই স্টেশনে পৌঁচাইলেন। অর্থাৎ সমগ্র দিবস তাহাকে স্টেশনেই কাটাইতে হইবে। ভাবিলেন ঝুলিতে থাকা খাদ্যরসদে দেখিতে দেখিতে কাটাইয়া দিবেন। কিন্তু তাহার ধারনা ভ্রান্ত প্রমানিত হইতে বেশি সময় লাগিল না। খাদ্যরসদ অল্পকালের মধ্যেই ফুরাইয়া গেল, অপরদিকে তাহার মতো বিলাসী ব্যক্তির পক্ষে রৌদ্রের তপ্ততা দুঃসহ হইয়া উঠিল। এমতাবস্থায় স্টেশন চত্বরে তাহার এক বন্ধু সুহৃদয়ের সহিত সাক্ষাৎ হইল।
“যাচ্ছিস কোথায়?” – সুহৃদয় জিজ্ঞাসা করিল।
বিলাসবাবু উত্তর দিল “কলিকাতা”।
“কলিকাতা যাওয়ার ট্রেন তো বিকেলে। এত আগে এসেছিস কেন?”- অবাক হয়ে সুহৃদয় জিজ্ঞাসা করিল।
গৃহত্যাগের ঘটনা যথাসম্ভব আড়াল করিয়া আনন্দবাবু বলিল -“সঠিক সময় জানতাম না।”
সুহৃদয় মসকারা করিয়া বলিল -“সারা দিন খাওয়া দাওয়া, ঘুম আর সাহিত্যচর্চা ছেড়ে এবার আশেপাশের খবরাখবর একাটু রাখুন। নাহলে আপনাকে মৃত বলে ঘোষনা করা হবে।”।
“চল আমার বাড়ি, এখান থেকে খুবই সামনে।”- সুহৃদয় বলিল।
বিলাসবাবু কিঞ্চিৎ ইতস্তত করিলেও উদরে তখন মুসিকগনের আনাগোনা শুরু হইয়া গিয়াছে। অপ্রদিকে রৌদ্রতেজ যেন অপরদিন হইতে একটু বেশিই তীব্রতা প্রদর্শন করিতেছে। তাই অগত্যা বন্ধুর সঙ্গ লইলেন । অল্পক্ষণের মধ্যেই তাহারা দুজন সুহৃদয়ের গৃহে পৌঁছাইল। সুহৃদয়ের স্ত্রীও বিলাসবাবুর আপ্যায়ন শুরু করিল। হাজার হোক, বিলাসবাবু শুধু অতিথি নহে, স্বামীর বন্ধু, অর্থাৎ ভ্রাতৃতুল্য। সরবত ও মিষ্টান্ন দিয়া শুরু করিল। কিন্তু বিলাসবাবু তাহা বুভুক্ষের ন্যায় সমাপ্ত করিলেন। সুহৃদয়ের স্ত্রী বুঝিল বিলাসবাবুর অবস্থা। মনে মনে ঈষৎ হাসি পাইল তাহার। বিলাসবাবুর জন্য হালকা খাওয়ারের আয়োজন করিল তৎক্ষণাৎ।ঈষৎ ফলাদির সহিত মুড়কি আর মিষ্টান্ন। বিলাসবাবু এমনিতেই অত্যধিক খাওয়া-দাওয়া করিয়া থাকেন, তাহার উপর ক্ষুধার্ত অবস্থায় এই খাদ্য পাইয়া যেন হাতে চাঁদ পাইয়া গেলেন। মুড়কি সাধারণত সকলে তারিয়ে তারিয়ে খাইয়া থাকে। বিলাসবাবু মুঠো মুঠো মুড়কি এক এক বারে গ্রাস করছিলেন কোনপ্রকার বিলম্ব না করিয়াই। বিস্ফারিত চক্ষে এ সব দেখিতেছিল সুহৃদয়, তার স্ত্রী ও তার পুত্র। খুব শীঘ্রই খাবার শেষ করিলেন বিলাসবাবু। মুখে তার একখানি হাসি প্রমান করিয়া দিচ্ছিল তাহার ক্ষুধানিবৃত্তি এখনো হয়নি। সুহৃদয়ের স্ত্রী এবার পূর্বের দ্বিগুণ খাওয়ার দিল। কিন্তু বিলাসবাবুর ওই খাবার শেষ করিতে পূর্বের অর্ধের সময় লাগাইল। বোধ হয় অল্প খাদ্য পেয়ে তাহার ক্ষুধা দ্বিগুন হইয়া গিয়াছিল । এবারও বিলাসবাবুর মুখে তৃপ্তি পরিলক্ষিত হইল না। সুহৃদয়ের স্ত্রী এবার কিছুটা ভয় পাইল। আয়োজন আর বেশি ছিল না। অল্প করেই খাদ্য দিল এবার। কিছুটা খাইবার পর বিলাসবাবুর গতি কমিতে লাগিল, বোঝা গেল বিলাসবাবুর মহান উদর শীঘই ভর্তি হইতে চলিয়াছে। খাবার শেষ করিয়া এক উচ্চস্বরে উদগার পূর্বক তাহার হালকা খাদ্যাভিযান শেষ করিলেন। সুহৃদয়ের স্ত্রী এক দীর্ঘশ্বাস ফেলিতে যাচ্ছিল এমতাবস্থায় আচমকা উচ্চস্বরে এই শব্দে সকলেই মুখ চাপিয়া হাসিবার বৃথা প্রচেষ্টা না করিয়া অট্টহাসি হাসিয়া উঠিল। এরপর বিলাসবাবুর সহিত সুহৃদয় ও তার ছোট্ট পুত্র গল্প, কথোপকথনে মাতিয়া উঠল। সহৃদয়ের স্ত্রী মধ্যাহ্নভোজন এর আয়োজন করিতে লাগিল। হঠাৎ বিলাসবাবুর উদরে পীড়া আরম্ভ হইল। তাহার মনে পড়িল প্রাতকালে তাড়াতাড়ি গৃহত্যাগ করিতে গিয়া শৌচকর্ম করিতেই ভুলিয়া গিয়াছেন। বিলাসবাবু একটু মুখচোরা প্রকৃতির। উদরে পীড়া কিন্তু মুখে নিরুত্তর। ভাবিলেন পীড়া কমিয়া যাইবে। এদিকে বেলা বাড়িল। সুহৃদয়ের বাড়ির সকলে স্নানের জন্য তৈরি হল। সুহৃদয় ভাবিল কলিকাতা যাইবার জন্য যখন বাহির হইয়াছে স্নান করিয়াছে নিশ্চিত। অপরদিকে গৃহত্যাগের প্রকৃত কারন ব্যক্ত করিতে বিলাসবাবুর বিবেকে বাধল। তাই চুপ করিয়া এই সংকট হইতে মুক্তির জন্য অন্তরে অন্তরে ছটফট করিতে লাগিলেন। সুহৃদয়, তার স্ত্রী,সন্তান একে একে স্নান সারিয়া আসিল। বিলাসবাবুর তখন চরম সংকট। একবার ভাবিলেন সুহৃদয়কে বলিবে তার এই সংকটের ব্যাপারে, কিন্তু তাহার মুখচোরা স্বভাব বাধা দিল।
দ্বিপ্রহরের ভোজনের বন্দোবস্ত করা হইল। সুহৃদয়ের স্ত্রী বিলাসবাবুর হালকা ভোজনের পরিমান সম্পর্কে পূর্বেই অবগত হইয়া বিশাল পরিমান ভোজের আয়োজন করিয়াছিল। পঞ্চব্যাঞ্জন, মুগের ডাল, কাতলা মাছের মাথা দিয়ে ঝোল কিছুই বাদ পড়েনি। এদিকে খাবারের পরিমান দেখিয়া বিলাসবাবুর চক্ষু বিস্ফারণ হওয়ার জোগাড়। পেটের পীড়া লইয়া এত আয়োজন তাহার জন্য একপ্রকার অত্যাচার।
সুহৃদয়ের স্ত্রীকে খাবারের পরিমান কমাইতে বলিলে সে ভাবিল হয়তো লজ্জায় পড়িয়া এমন বলিতেছেন। তাই সুহৃদয়ের স্ত্রী, বিলাসবাবুকে লজ্জা না করিয়া নিজের গৃহ ভাবিয়া খাইতে বলিল। বিলাসবাবু কিছুতেই তাহার এই সংকটময় অবস্থা ব্যক্ত করিতে পারিলেন না। বাধ্য হইয়া এই বিশাল আয়োজন উদরাস্ত করিতে হইল। কিন্তু তাহার খাবারের প্রতি কোন উৎসাহ এবং গতি না দেখিয়া সুহৃদয়ের স্ত্রী ভাবিল তাহার রন্ধন হয়তো বিলাসবাবুর মনে ধরেনি। সুহৃদয়ের স্ত্রী বিলাসবাবুকে খাদ্যের প্রতি এমন অনীহার কারন জিজ্ঞাসা করিলে বিলাসবাবু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার হেতু খাদ্য বেশ সুস্বাদু,সুসিদ্ধ হইয়াছে বলিয়া খাওয়ার গতি ও উৎসাহ বাড়াইয়া দিলেন। সুহৃদয়ের স্ত্রী এবার বিলাসবাবুকে খাদ্যের পরিমান সম্পর্কে কিছু বলার সুযোগ রাখিল না। শেষ হইতে না হইতেই আরো দ্বিগুণ পরিমাণ অন্ন-ব্যাঞ্জন পাতে ঢালিয়া দিল। এদিকে বিলাসবাবুর তখন ওষ্ঠগত প্রান। কোনপ্রকারে সেই খাবারও শেষ করিয়া উঠিলেন। ভাবিল বাহির হইয়া শৌচের ব্যবস্থা করিবেন। কিন্তু দ্বিপ্রহরে ভোজনের পর সুহৃদয় বিলাসবাবুকে খানিক বিশ্রাম লইতে বলিল। স্টেশন যেহেতু অনতিদূরে তাই স্টেশন পৌছতে বিলম্ব হইবে না। বিলাসবাবু নিরুপায়। চুপ করিয়া শুনিলেন এবং বিছানায় গড়াইতে লাগিলেন। হঠাৎই সুহৃদয়ের পুত্র ঘরে আসিল। বিলাসবাবুর থেকে গল্প শোনার ইচ্ছাপ্রকাশ করিল। উদরে চাপ লইয়া কি গল্প শোনানো যায়? কিন্তু তিনি দুরন্ত জেদি বালকের সাথে পারিলেন না। তার দাবি রাখিলেন। দুরন্তপনা বশত সে বিছানায় উৎপাত করিতে লাগিল। হঠাৎই সুহৃদয়ের ছেলে বিলাসবাবুর বিশালাকার উদরের উপরে উঠিয়াও লাফাইতে থাকিল। বিলাসবাবুর মুখমণ্ডল তখন ক্রমশই রক্তিম হইয়া উঠিতে লাগিল। কিন্তু ক্ষুদ্র বালকের উপর উচ্চস্বরে কিছু বলিতে পারিলেন না। কিছুক্ষন এই অত্যাচার সহ্য করিবার পর অপরাহ্ণ প্রায় হাজির। বহুকাঙ্ক্ষীত সেই ক্ষন উপ্সথিত অবশেষে। বিলাসবাবু ভাবিলেন এইবার মুক্তি। কিন্তু ভাগ্য বিলাসবাবুর সঙ্গ দিল না। সুহৃদয় তাহাকে স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছাইতে গেল। সমগ্রপথ সুহৃদয় কথা বলিয়া গেল, বিলাসবাবু নীরব থাকিলেন আর মুক্তির উপায় ভাবিতে লাগিলেন। বিলাসবাবু দেখিলেন সুহৃদয় সঙ্গে থাকিলে তাহার মুক্তি অসম্ভব। তাই একপ্রকার ছলচাতুরীর শরণাপন্ন হইতে হইল তাহাকে। বিলাসবাবু সুহৃদয়কে বলিলেন তাহার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তিনি গৃহে ফেলিয়া আসিয়াছেন। তাই তাহার পক্ষে অদ্য কলিকাতা যাওয়া অসম্ভব। তাহাকে গৃহে ফিরিয়া যাইতে হইবে। সুহৃদয় বিস্মিত হইল, অট্টহাস্যের সহিত বলিল-“আর কি কি ভুলে যাস?”
দুই বন্ধু গলা মেলাল। সুহৃদয় পিঠ চাপড়ে বিদায় জানাল। এদিকে পিঠ চাপড়ানোর প্রভাব বিলাসবাবুর উদর পর্যন্ত বিস্তৃত হইল। সে বাড়ির পথে রওনা দিল। রাস্তা-ঘাটে শৌচকর্ম বিলাসবাবুর রুচিতে বাধে। তাই ভাবিল বাড়ির শৌচালয়ই তার এখন একমাত্র গন্তব্যস্থল।সাড়ে তিন ক্রোশ রাস্তা কিভাবে যে শেষ করিলেন তাহার খেয়াল ছিল না। যখন বিলাসবাবু তাহার পাড়াতে পৌঁছলেন পাড়ায় তাহাকে দেখিয়া হুলস্থুল কান্ড বাঁধিয়া গেল। সকাল হইতে নিখোঁজ হইবার কারনে শ্যামাদেবী পাড়ার সব গৃহে খোঁজ করিয়াছিলেন। সকলেই বিলাসবাবুর পশ্চাৎ হইতে ডাকিতে লাগিল। ক্রন্দনরতা শ্যামাদেবীও বিলাসবাবুকে দেখিয়া ছুটিয়া যাইল। কিন্তু কোন শব্দই তখন বিলাসবাবুর কর্ণকুহরে প্রবেশ করিতেছিল না। তখন তিনি লেখক নন, নন বিলাসি অলস একজন, নন কোন অকর্মন্য স্বামী। লক্ষ্যভেদের ন্যায় তাঁহার দৃষ্টি বাড়ির শৌচালয়ের দিকেই আবদ্ধ হইয়া গিয়াছিল। একটা উদরের পীড়া তাহাকে শিখাইয়ায়াছিল আপন গৃহ হইতে সুখকর স্থান পৃথিবীতে নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here