বিসিএস প্রস্তুতি: শক্ত বেসিক নলেজ তৈরীর জন্য যেভাবে এবং যে বইগুলো পড়বেন!

শামীম আনোয়ার, সহকারী পুলিশ সুপার ( এএসপি), ৩৪ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডার, মেধাক্রম ১১, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সাবেক ছাত্র।

বেসিক তৈরি করার মূল প্রতিপাদ্য হল সঠিক প্রস্তুতিকৌশল নির্ধারণ, নির্ভুল উপকরণ বাছাই ও তার যথাযথ ব্যবহার এবং জীবনাচরণের প্রতিটি পদক্ষেপ-

কে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যাভিমুখী করার সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ বেসিক বিল্ডিং হলো,সঠিক প্রক্রিয়া অবলম্বন ও সে অনুযায়ী নিজেকে উপর্যুপরি শাণিত করার লক্ষ্যে অব্যাহত প্রচেষ্টা। আমরা দেখে নেওয়ার চেষ্টা করব, বিসিএসসহ অন্যান্য চাকুরী পরীক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখা ও সে লড়াইয়ের রসদ সংগ্রহকে যারা পাখির চোখ করেছেন, কেমন হতে পারে তাদের সেই বেসিক তৈরির আঙ্গিক।

#১ইংরেজিতে_দক্ষতা_বৃদ্ধিঃ

যেকোন চাকুরির পরীক্ষায় ( এমনকি ভাইভায়ও) ভাল করার জন্য ফ্রিহ্যান্ড রাইটিং , স্পোকেন ইংলিশ ও ইংরেজি গ্রামারের ওপর ভাল দখল নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। এটি অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় আপনাকে অধিক কম্পিটিটিভ ও যোজন যোজন এগিয়ে দেওয়ার মতো এমন একটি ভাইটাল গুণ, যা অন্যান্য বিষয়ের মতো একদিন, একমাস বা একবছরে আয়ত্ত করা রীতিমতো অসম্ভব। তাই এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দিন আজই।

প্রতিদিন ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হালকা পাতলা নজর বুলিয়ে রেখে দিলেন, এমন নয়, এর পেছনে কমপক্ষে একঘণ্টা সময় বরাদ্দ রাখুন। যারা পত্রপত্রিকায় ব্যবহৃত আধুনিক ইংরেজি ভাষাভঙ্গি সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকেফহাল নন, তারা প্রফেসর্স প্রকাশনের How to read English newspaper বইটি ( আশা করি সবাই নাম শুনেছেন) সময় নিয়ে, বুঝেবুঝে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কয়েকবার পড়ে ফেলুন। আশা করা যায় ভাষা ও আধুনিক বাক্য গঠন ভঙ্গি সম্পর্কে একটা সম্যক ধারনা পেয়ে যাবেন।

এবার ভাল মানের একটি ইংরেজি পত্রিকা ( আমি ডেইলি স্টার পড়ি) বাসায় রেখে উল্লিখিত নিয়মে শুরু করে দিন। বিগেইনাররা প্রথমে শুধু হেডলাইন পড়ে যেতে পারেন, তারপর আস্তে আস্তে আপনার নিজস্ব রুচিবোধ অনুযায়ী পছন্দনীয় টপিকগুলো পড়ার চেষ্টা করুন। সময় নিন, ডিকশনারি খুলে প্রয়োজনীয় শব্দের অর্থ জেনে নিয়ে তা খাতায় নোট করে রাখার মতো ধৈর্যশীল হোন, তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। এভাবে সময়ের পরিক্রমায় উপসম্পাদকীয় কলামসমূহ একটু একটু করে দেখার চেষ্টা করুন। ইনশাআল্লাহ, ইংরেজিতে অন্যদের ঈর্ষাকাতর করে দেওয়ার মতো দক্ষতা অর্জনের দিকে আপনি এগিয়ে যাবেনই।

চাকুরির পরীক্ষায় কম্পালসরি ইংলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির পরীক্ষাসমূহও যদি কোয়ালিটি ইংরেজি দিয়ে লিখে আসতে পারেন, অন্য প্রতিযোগী দের তুননায় এখানেই অন্তত ৫০ নম্বর এগিয়ে যাওয়া কোন ব্যাপারই নয়।

গ্রুপ করে সপ্তাহে একদিন হলেও ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা শুরু করুন।

এডভান্স_লেভেলের_জন্যঃ

১. English for competitive exam by, fazlul haque.( শুরুতেই এই বইটা পড়লে যেকোন পরীক্ষায় বসার মত একটা প্রস্তুতি আপনার হয়ে যাবে, যা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী ও পরবর্তী প্রস্তুতির সময় নির্ভার রাখবে + বিগত বছরের বিভিন্ন চাকুরি পরীক্ষার প্রশ্নও এতে কভার হয়ে যাবে- সে অর্থে এটিকে ইংরেজির জব সল্যুশনস ও বলা চলে)

২. saifur’s vocabulary (এই বইটি ভালমতো আত্মস্থ করতে পারলে অন্তত ভোকাবুলারি নিয়ে যে আপনাকে আর ভাবতে হবে না, তা সাইফুর স্যারের হেটার্সরাও অবলীলায় মেনে নিবেন।

৩. চৌধুরী এন্ড হোসাইন স্যার লিখিত advanced learners বইটির সম্পূর্ণ গ্রামার অংশ। ( সুবিধা হল এই বইটি আমাদের প্রায় সবারই আগে থেকে পড়া আছে, তাই পড়াটা সহজ হবে, যারা এসএসসি বা ইন্টার লেভেলে অন্য বই ফলো করেছিলেন, সেই বইটি থেকেই কভার করতে পারেন) Cliffs TOEFLসহ পেট মোটা আরো কতকত বইয়েরনাম শুনবেন, এককথায় বলব, নিজের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না ( এক্সপার্ট ইউজার দের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন, মূলত বিগেইনারদের জন্যই আমার এ লেখা)

৪. সাহিত্য অংশের জন্য ওরাকল প্রিলি ও রিটেন গাইডের সাহিত্য অংশের পাশাপাশি ABC of english literature বইটি দেখে নিবেন। এছাড়া লেটার রাইটিং এর জন্য সঠিক ফরম্যাট জেনে নিয়ে মাঝে মাঝে প্র্যাকটিস করুন। ( চৌধুরী এন্ড হোসাইন স্যারের বইতেই পাবেন)

#বাংলাঃ

বাংলার জন্য এই মুহূর্তে আলাদা করে না ভাবলেও চলবে। পরীক্ষার আগের ক’মাস সময়ই এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হবার কথা। তবে নিম্নের কাজগুলো সতর্কতার সাথে করে যেতে পারেন।

বাংলা পত্রিকা বা যে কোন বই পড়ার সময় কনফিউজিং বানানগুলো আলাদা ভাবে খেয়াল করবেন।

চিঠি, স্মারকলিপি, ভাবসম্প্রসারন, সারাংশ সারমর্ম সংলাপ প্রভৃতির ফরম্যাটটা জেনে নিয়ে মাঝে মাঝে ফ্রিহ্যান্ড লেখার প্র্যকটিস করবেন।

#এডভান্স_লেভেলের_জন্যঃ

১. mp3 প্রিলিমিনারি বাংলা ( শুধু বর্ণনা গুলো পড়বেন। এমসিকিউ আকারে দেওয়া প্রশ্ন দেখার দরকার নেই। ব্যাকরণ, সাহিত্য সব, অর্থাৎ এটা থেকে কিছুই বাদ দেবেন না।)

২. সৌমিত্র শেখর স্যারের জিজ্ঞাসা ( এই বই থেকে শুধু সাহিত্য অংশ দেখুন, ব্যাকরণ অংশ কোনকোন ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক লেখায় ভরা ( একটু খেয়াল করে দেখলে নিজেই বুঝবেন) কথাগুলো কি একটু বামনের চাঁদে হাত টাইপের ব্যাপার হয়ে গেল!!! স্যরি, স্যার। তবে আমি নিজে পড়তে যেয়ে যা মনে হইছে, তা-ই বললাম।

৩. ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত আবশ্যিক বাংলা বইয়ে যেসব কবি সাহিত্যিকের গল্প-কবিতা রয়েছে, তাদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত ( ছন্দেছন্দে বা অদ্যাক্ষর দিয়ে সাহিত্যকর্ম মুখস্ত রাখতে গেলে বড় ধরনের প্যারায়ই পড়তে হবে, এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত থাকুন। কারন একসময় দেখবেন, এক কবি/ সাহিত্যিকের সাথে অন্যজনের ছন্দ মিলে গিয়ে পুরো তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আর অদ্যাক্ষর মুখস্থকারীরা দেখবেন, একপর্যায় একই অক্ষরে কয়েকটা করে সাহিত্যকর্ম এর নাম চলে আসছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি এ ধরনের ছন্দ বা অদ্যাক্ষরের টোটকা বা শর্ট টেকনিক দিয়ে জোর করে কোন কিছু মুখস্থ রাখার চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে পঠিতব্য সাহিত্যকর্ম গুলোর ওপর বারবার সতর্ক চোখ বোলাতে থাকুন। সম্ভব হলে একজন শব্দ করে পড়ুন, অন্যরা শুনুন, বা নিজেই গুনগুন করে পড়ুন, আবার নজর বোলান। এভাবে একবার, একশবার, হাজারবার। ইনশাআল্লাহ কোন সাহিত্যকর্ম নাম শুনলে বলে দিতে পারবেন, কার লেখা, কখন লেখা, কি প্রকৃতির লেখাসহ প্রয়োজনীয় আঙ্গিকসমুহ।

৪. শুধু ব্যাকরনের জন্য নবম-দশম শ্রেনীর ব্যাকরন বই ( প্রথম থেকে শেষলাইন ঠোটস্থ করে নিন) এর পাশাপাশি হায়াত মামুদের বইটির ব্যাকরন অংশ দেখবেন।

নিজেকে_আপডেট_রাখুন

#সাধারণ_জ্ঞান

সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএস সহ চাকুরি পরীক্ষাসমূহের প্রশ্নপত্রের ধরণে যে পরিবর্তনের ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে, তাতে পরীক্ষার দুচার মাস আগে আজকের বিশ্ব/নতুন বিশ্ব নামের প্যাকেজ দিয়ে পার পাবার কথা যারা ভাবছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এক বিসিএসের তুলনায় অন্যটির প্রশ্নের ধরন এতটাই পালটে যাচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ অতীত, বর্তমান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ঘটনাবলি র ওপর যথাযথ দখল রেখে সাফল্য লাভের আশা করা দিবাস্বপ্ন মাত্র। তাই এখন থেকেই নিজেকে ধীরেধীরে প্রস্তুত করে তুলুন।

দিনে কমপক্ষে একবার হলেও আপনার পছন্দের যে কোন একটি চ্যানেলের সংবাদ মনযোগ দিয়ে শুনুন।

আপনি যদি এক্সপার্ট ইউজার না হয়ে থাকেন, তা হলে ইংরেজি পত্রিকা শুধু আপনার ভাষিক দক্ষতার উন্নয়নেই কাজে আসবে। তাই ইংরেজির পাশাপাশি একটি বাংলা দৈনিকও রাখুন।

খেলার পাতা, নকশা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হালচাল, ন্যান্সির ফ্রিটজি খালার অঙ্গসৌষ্ঠব দেখার অভ্যেস থাকলে সেটি বাদ দিন।( না দেখে থাকলে একবার দেখে নিতে পারেন, না হয় সেই কৌতূহলে আবার পড়ায় মন না বসে!!)

প্রধানত, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীর কলাম, অর্থনৈতিক সংবাদ, আন্তর্জাতিক এই তিনটি পাতা বেশি করে পড়বেন।

এতদিন তো আপনারা বাজেট, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, আদমশুমারি ইত্যাদিকে আঁতেল বুদ্ধিজীবীদের পাঠ্য বিষয় ভেবে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। আর দূরত্ব নয়, এবার কাছে আসুন।

#এডভান্স_লেভেল_ও_একটি_পর্যবেক্ষণঃ

আজকের বিশ্ব, নতুন বিশ্ব এসব বইয়ের ক্ষেত্রে আমার মূল্যায়ন হল, এটাইপের বই চাকুরির পরীক্ষার জন্য যতটা না প্রস্তুত করবে, তারচেয়ে বেশি হতাশ করবে। কারন ২/৩ মাস সময় নিয়ে একবার পড়ে আসার পর যখন দেখবেন সব ভুলে বসে আছেন, তখন হতাশায় পেয়ে বসার মতো বৃহৎ ক্ষতির সম্ভাবনা ও আছে। তার চেয়ে বড় কথা পেট মোটা সাইজের এসব বই যে পরস্পরের সাথে অধিক কার্যকরতার প্রতিযোগিতা করতে করতে অপ্রয়োজনীয় আইটেমে ভরপুর হয়ে গেছে ( এগুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাটেরিয়াল খুঁজে পাওয়া খরের গাদায় সুচ খোঁজার চাইতে কম কঠিন নয়।

একটু সেন্স খাটিয়ে দেখলে যে কেউ এই বাস্তব সত্যটি উপলব্ধি করবেন। তাই আমি নিজে সবসময় এমন ম্যাটেরিয়ালই বেছে নিতে চেয়েছি, যাতে শুধু প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়ালগুলোই পাওয়া যাবে, অযাচিত, অগুরুত্বপূর্ণ আইটেমে ভরপুর বর্ধিত কলেবরের নয়। এক্ষেত্রে আপনি দেখতে পারেন:

১. mp3 বিসিএস বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ( এই বইটা ফার্স্ট টু লাস্ট কয়েকবার রিভাইজ দিন, বড় সুবিধা-কোন অপ্রয়োজনীয় ক্যাচাল নাই)

২. নীলক্ষেতে দেখবেন সাম্প্রতিক সাধারন জ্ঞান টাইপ নামের ৪০/৫০ পৃষ্ঠার কিছু বই পাওয়া যায়, ওখান থেকে ১/২ টা কিনে নিন।

৩. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে ভালমতো জেনে নিন। ( নির্দিষ্ট কোন বই না পড়ে উইকিপিডিয়া থেকে সার্চ দিয়ে রিলেটেড টপিক প্রিন্ট করে নিতে পারেন। তবে অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটা অবশ্যই ভালকররে পড়বেন।

৪. সংবিধানঃ ১৫৩ টি ধারা মুখস্থ করে সময় নষ্ট করার দরকার নাই, ৫০টির মতো ( যারা সময় পাবেন তারা ৭০/৮০ টি) গুরুত্বপূর্ণ ধারা ভিতরর বর্ণনাসমূহ বাড়াবার পড়ুন। এর বাইরে প্রস্তাবনা, সংশোধনী, রচনার ইতিহাস ভালমত দেখুন। ( মূল সংবিধানে যা নেই, সেগুলো বাংলাপিডিয়া থেকে আমি প্রিন্ট করে নিতাম, অন্য কোন বই থেকে পড়লেও মহাভারত অশুদ্ধ হবে না) আরিফ খানের সংবিধান বইটি সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।

৫. নবম শ্রেনির বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয় বইটি ভালমত পড়ে নিন। মৌলিক বিষয়াবলী সম্পর্কে সম্যক ধারনা পাবেন।

#বিজ্ঞান_ও_কম্পিউটারঃ

আগে বিসিএস ছাড়া অন্যান্য চাকুরি পরীক্ষায় বিজ্ঞান /কম্পিউটার থেকে তেমন প্রশ্ন না এলেও দেশজুড়ে সর্বব্যাপী ডিজিটালাইজেশনের প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতায় পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তাই নিজেকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয় যারা নিয়েছেন, তারা এ বিষয়টিকেও যথাযথ গুরুত্ব দিন।

মুজিবুর রহমান লিখিত উচ্চমাধ্যমিক আইসিটি বইসহ ষষ্ট থেকে নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইগুলো সংগ্রহ করে টুকটাক দেখতে থাকুন। আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও সময়ে এর ফল ভোগ করে নিতে পারবেন।

বিজ্ঞান সংক্রান্ত সাময়িকী টাময়িকী সামনে পরলে নেড়েচেড়ে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

যারা আরেকটু এগুতে চান, ওরাকল প্রিলিমিনারি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কম্পিউটার বইটি পড়া শুরু করে দিতে পারেন। সিলেবাস ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি এতে এনশিওর হবে।

#ভূগোল_পরিবেশ_ও_দুর্যোগ_ব্যাবস্হাপনা_নৈতিকতা_মুল্যবোধ_ও_সুশাসন

বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাসের নতুন অতিথি। অন্যান্য চাকুরি পরীক্ষার প্রশ্নেও যে যখন তখন ঢুকে পরবে, এটা নিশ্চিত করেই বলা চলে।

স্কুল লেভেলের বইয়ে ( প্রধানত, নবম- দশম) এ সম্পর্কিত যে চ্যাপ্টারসমূহ রয়েছে, সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট চ্যাপ্টারসমুহ ফটোকপি করে দেখা শুরু করুন।

নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা নবম শ্রেনীর ভূগোল বইয়ের চতুর্থ চ্যাপ্টার। উচ্চমাধ্যমিক ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ by প্রফেসর মোজাম্মেল থেকে সংশ্লিষ্ট অংশ **আরো এডভান্স লেভেলে যারা ভাবছেন, তারা ওরাকল গাইড ( প্রিলি ও রিটেন) দেখতে পারেন।

#গণিত

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার হল। আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসে থেকে দুরুদুরু বক্ষে প্রশ্নের জন্য অপেক্ষা করছেন। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই ঘণ্টাধ্বনি। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করলেন, যার জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ে ছিলেন, সেই গণিত থেকে একটি প্রশ্নও নেই!! বলুন তো কেমন লাগবে তখন!!” এত্ত খুশি হয়ে পরার কিচ্ছু নাই।এটি যে একটি স্বপ্ন কল্পনা, তা এতক্ষণেও যদি আপনি না বোঝেন, তাইলে আপনাকে দিয়া কিচ্ছু হবে না। চাকুরী পরীক্ষায় ম্যাথ থেকে প্রশ্ন থাকবে না, এটি কখনো হয়নি, হয়না, হবে না। আপনার ক্যারিয়ারের গতিপথ নির্ধারণ করে দেওয়া যে পরীক্ষায় যে বিষয় থেকে প্রশ্ন আসা অবধারিত, সেটিতে কতটা গুরুত্ব দিতে হবে, তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করছেন।

হাইস্কুল লেভেলে যারা অংকে ফাঁকি দিয়ে বেড়িয়েছিলেন, ( আমি আপনাদেরই দুঃখী এক সমগোত্রীয় ভাই) তাদের জন্য দুঃসংবাদ। রীতিমতো দুস্তর মরু কান্তার গিরি ( উলটা হয়ে গেল নাকি, বুঝতেছি না) পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতে পারেন।

আর সায়েন্স ছাড়া অন্য ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থী যারা, তাদের গন্তব্যযাত্রা যে আরো সর্প-স্বাপদ সংকুল, তাও কি আপনাদেরকে বলে দিতে হবে!!! ছোটবেলায় স্যারদের কথা তো এককান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্যকান দিয়ে বের করে দিয়েছেন, এখন ফিরে যান আবার সেই শৈশবে।

৭ম/৮ম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবই থেকে শুধু বিসিএসের সিলেবাসভুক্ত চ্যাপ্টারসমূহ ফটোকপি করে নিন। তারপর কোন অভিজ্ঞ টিচার/ বড়ভাইয়ের সহযোগিতা নিয়ে ধীরে ধীরে হজম করতে থাকুন।

এতে হুট করে ম্যাথ আপনার জন্য জলভাত না হয়ে পড়লেও ( কাঁচায় না নোয়ালে বাশ… জানেনই তো) অন্তত চাকুরি পরীক্ষার সুকঠিন বৈতরণী পাড়ি দেওয়ার সময় বিশ্বস্ত বন্ধু রূপে পাশে পাবেন।

#এডভান্স_লেভেল

১. শর্টকাট ম্যাথ by Ariful Islam. ( এই বইটির বড় সুবিধা হলো চাইলে এক-দু দিনেই শেষ করা যায়। তাই এর মাধ্যমে আপনি যেকোনো পরীক্ষার জন্য মোটামুটি নিজেকে প্রস্তুত রাখলেন) ১. প্রফেসরস গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা ( প্রিলিমিনারি ও লিখিত) ( মূলত আপনার ফাউন্ডেশন বিল্ড আপ করে দেবে, এটি শেষ করার পর ম্যাথ ভীতি আর থাকবে না, আশা করা যায়)

২. সাইফুর্স ম্যাথ ( সাইফুর স্যারের বালখিল্যতাপূর্ণ কথামালা,শুনতে যত হাস্যকর লাগুক, বই কিন্তু তিনি ভালই লিখেছেন, এই বই বিসিএসের পাশাপাশি ব্যাংকসহ অন্যান্য সরকারি বেসরকারি জবের জন্য তৈরি হতে আপনাকে দারুনভাবে হেল্প করবে।।