চুমু খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে কিভাবে উপকারী?

kissing benefit

চুমুর কিছু হেল্‌থ বেনিফিট তো রয়েছে। আমি একটু ফিটনেস সচেতন মানুষ তাই ফিটনেস রিলেটেড ব্যাপারটা দিয়েই শুরু করা যাক।

চুমুতে ক্যালোরি বার্ন হয়। এক মিনিট চুমু খেলে ২ থেকে ৬ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন হতে পারে, যেখানে ট্রেডমিলে দৌড়ালে আপনার মিনিটে ১৩ থেকে ১৫ ক্যালোরি বার্ন হয়। এখানে একটা বিশাল বড় কিন্তু রয়েছে। মিনিটে ৬ ক্যালোরি বার্ন করা কিন্তু একেবারে সহজ কাজ না। চুমু খেয়েই যদি আপনি মিনিটে ৬ ক্যালোরি বার্ন করতে চান তবে বাপু আপনাকে বেশ পরিশ্রম করে চুমু খেতে হবে। আমরা বাচ্চাদের যেভাবে আলতো করে চুমু খাই তাতে কিন্তু আপনার এক ফোঁঁটাও ক্যালোরি বার্ন হবার কথা না। আরেকটা কথা, ট্রেডমিলে আপনি যদি ১০ মিনিট দৌড়ান তাতে আপনার ১০০ ক্যালোরির মতো বার্ন হবার কথা। কিন্তু ১০০ ক্যালোরি যদি আপনি চুমু খেয়ে বার্ন করতে চান তাহলে কিন্তু আপনার আর আপনার পার্টনারকে বেশ খাটতে হবে। আর এতক্ষণ এই প্রসেসে ১০০ ক্যালোরি বার্ন করা আমার মনে হয় না আমাদের মতো সাধারণ কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব। এমরান হাশমির মতো অত্যন্ত একনিষ্ঠ এবং প্রফেশনাল কারো পক্ষে হয়তো সম্ভব হতে পারে। তবে আপনি আপনার প্রিয়তম কিংবা প্রিয়তমাকে কিন্তু বলতেই পারেন ‘Let’s have some work out today, baby’।

প্রবল চুমু (একটা ভালো নাম দেয়া গেলো এই চুমুটার) আপনার চেহারার মাসলগুলোকে একটিভ করবে। রিসার্চাররা বলে থাকে এ ধরনের কিসিং এর সময় ৩০ টা মাসলে একসাথে ব্যায়াম হয়। সুতরাং চেহারা টানটান রাখার ক্ষেত্রে প্রবল চুমু সাহায্য করতে পারে।

** ‘প্রবল চুমু’ শব্দটা বোধহয় আমার আবিষ্কৃত, এটা কপিরাইট করে ফেলা উচিত।

এবার আসি কাজের কথায়। চুমুর সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এটা অক্সিটসিন, এনডরফিনস এবং ডোপামিন নিঃসরণ করে। এই হরমোনগুলো নিঃসরণের কারণে আপনি রিল্যাক্সড ফিল করবেন, শরীরের মধ্যে কম্ফোর্ট কাজ করবে এবং প্রিয় মানুষটার প্রতি এক ধরনের অ্যাটাচমেন্ট ফিল করবেন।

চুমু খাওয়ার মতো মিষ্টি অনুভূতি কিন্তু খুব কমই হয়। ভালোবাসার প্রকাশ তো বটেই, তার সাথে দু’জন মানুষের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতার সর্বোচ্চ প্রকাশ হল চুম্বন। আর এই ঠোঁটে চুম্বন করলেই মেলে শারীরিক নানা উপকার। হ্যাঁ, একেবারে ঠিকই শুনেছেন! শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে চুমু খেলে একাধিক জটিল রোগের প্রকোপও কমে। তাই তো আপনাদের জীবনে যাতে ভালোবাসার অভাব না হয়, আর সেই সঙ্গে শরীরও যাতে চাঙ্গা থাকে, তা সুনিশ্চিত করতেই আজ আপনাদের জানাবো এমন কিছু Kissing Benefits অর্থাৎ চুম্বনের নানা স্বাস্থ্যকর দিক যা পড়তে পড়তে আপনাদের চোখ কপালে উঠতে বাধ্য! তাই আর দেরি না করে পড়তে থাকুন চুমু খাওয়ার নানা উপকারিতা।

১। ভালোবাসার মানুষকে রোজ চুমু খেলে মন ভালো থাকে। নান ধরণের স্ট্রেস, প্রবল মানসিক অশান্তি দূর হয়।

২। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, দাঁতের স্বাস্থ্যরক্ষায় চুম্বন ভীষণ উপকারী। পরস্পর পরস্পরকে চুমু খাওয়ার সময় তাদের লালা মিশে যায় এবং তাতেই দাঁত, মাড়ি আর মুখের সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। এইভাবে প্রতিদিন চুমু আপনার দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

৩। চুমু খাওয়ার সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, শরীরের শিরা আর ধমনীগুলো প্রসারিত হয়, তাতে শরীরে রক্ত স্বচ্ছন্দে প্রবাহিত হতে পারে এবং রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৪। আপনি জানেন কি চুমু খেলে প্রতি মিনিটে প্রায় ২-৬ ক্যালরি বার্ন হতে পারে।

৫। মুখের ব্যায়ামের জন্য চুমু আদর্শ। চুমু খেলে মুখে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে কোলাজেন উৎপাদনও বাড়ে। মুখের ত্বক টানটান ও সতেজ থাকে।

৬। চুমু খেলে স্বাভাবিকভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৭। চুম্বন আমাদের হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।

৮। আয়ু বৃদ্ধি পায় চুমু খেলে, তাই যতই ব্যস্ত রুটিন হোক না কেন, হাতে অল্প সময় বার করে ভালবাসার মানুষটিকে একটু আদর করতে ভুলবেন না যেন।

তাই যত খুশি চুমু খান আর সুস্থ থাকুন!