ইউটিউব কীভাবে জনপ্রিয় করবেন?

youtube viral

আমরা যারা ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করি তারা আশা করি যে আমাদের ভিডিওটি অবশ্যই ট্রেন্ডিং এ চলে যাবে। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষ আমাদের ভিডিওটি দেখবেন। কারণ আমরা সেরা ভিডিওটি তৈরি করেছি।

বাস্তবে, সেরা ভিডিও বলে কিছু হয়না সেটা ভিডিওর কোন ডেফিনেশন নেই? কোন ভিডিওটি সেরা তার ডেফিনেশন এই পৃথিবীতে কেউ দিতে পারবে না।

যাই হক আমরা আমাদের প্রতিটা ভিডিও আমাদের সাধ্যমত সেরা ভিডিও বানায় এবং সেটা ইউটিউবে আপলোড করি। কিন্তু বাস্তবটা ঠিক তার উল্টো হয়। তিন সংখ্যার ভিউয়ার টপকাতে অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে আমাদের। কিন্তু আমরা তো সেরা ভিডিওটি বানিয়েছিলাম। তাহলে ভিডিওটা ভাইরাল হওয়ার বদলে মুখ থুবড়ে পড়লো কেন?

আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী:

ইউটিউব তার অ্যালগোরিদম অনুযায়ী প্রথমে ধরুন, 30 জন লোকের কাছে আপনার ভিডিওটা পাঠাবে ইউটিউব ফিডের মাধ্যমে। এই 30 জন লোকের মধ্যে যদি ধরুন পনেরো কুড়ি জন লোক ও ভিডিওটা ক্লিক করে এবং দেখার পর আপনাকে পুরো টাইম দেয় তাহলে হয়তো ইউটিউব এর অ্যালগরিদম দশ হাজার লোকের ইউটিউব ফ্রন্ট পেজে বা ফিডে ভিডিওটা প্রকাশ করবে। আমার আন্দাজ এরকম ভাবেই অ্যালগরিদম টা তৈরি করেছে ইউটিউব। আমি হান্ডেট পার্সেন্ট সিওর ইউটিউবের অ্যালগোরিদমের এই ফ্যাক্টরটা আছে। আমাদের এই কোরা প্লাটফর্ম এর অ্যালগরিদম ও এই ফ্যাক্টর মেনে চলে। এটা একটা কমন অ্যালগরিদম ফ্যাক্টর।

যদিও ইউটিউব কখনোই তার অ্যালগোরিদম প্রকাশ করে না। তবুও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেখেছি যে এরকম ভাবেই ভিউয়ার সংখ্যা এগোতে থাকে। এবং ভাইরাল ভিডিও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়। একটা ভিডিওকে ভাইরাল হতে সময় লাগে ম্যাক্সিমাম একদিন কি দুদিন।

ইউটিউবে কথামতো চল্লিশটা ফ্যাক্টর কাজ করে কোন ভিডিওকে ভাইরাল বা ট্রেন্ডিং করার ক্ষেত্রে। এই চল্লিশটা ফ্যাক্টর অত্যন্ত গোপনীয় করে রাখা। তবু আমাদের আন্দাজ করতে করতে কাজ করতে হয় এবং প্রতিদিন নতুন করে শিখতে হয়। ইউটিউব এর প্রতিটা কনফারেন্সে ইউটিউবের পক্ষ থেকে আসা লেকচারার আমাদের বলেন যে এই চল্লিশটা ফ্যাক্টর এর জন্য পাশাপাশি বসে থাকা, একই বাড়িতে থাকা একই মানুষের ইউটিউব এর ফ্রন্ট পেজ কখনোই একই রকম হয় না। প্রত্যেকের ইউটিউব আলাদা আলাদা। এবং অবশ্যই এটা বাস্তব।

এবার মূল প্রশ্ন হচ্ছে ইউটিউব চ্যানেলটি জনপ্রিয় কি করে করতে পারি? ইউটিউব চ্যানেল জনপ্রিয় করতে গেলে মাত্র একটা ভিডিও কে জনপ্রিয় করাই যথেষ্ট। হ্যাঁ মাত্র একটা ভিডিও গোটা ইউটিউব চ্যানেল কে দাঁড় করিয়ে দেয়। মাত্র একটা ভিডিও।

কিন্তু সেই একটা ভিডিও কোনটা হবে সেটা আপনার বা আমার পক্ষে আগাম বলা সম্ভব নয়। যেহেতু আপনি ইউটিউব চ্যানেল চালাচ্ছেন আমি আশা করব যে আপনি ইউটিউব এসইও এবং মার্কেটিং সম্পর্কে মোটামুটি জানেন। এবং প্রত্যেকটি ভিডিওতে আপনি তা প্রয়োগ করে যান এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। ওই প্রসঙ্গে বিশেষ কিছু বলার প্রয়োজন নেই। যদি বলার প্রয়োজন হয় তাহলে জানাবেন পরে বলে দেবো। যাই হোক।

তাহলে করতে হবে কি?

প্রথমত:

প্রচুর কনটেন্ট তৈরি করে ফেলতে হবে। যতটা পারা যায় বেশি সংখ্যায় কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। প্রতিদিন একটা বাধ্যতামূলক। পারলে দিনে পাঁচটা ছটা কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে সব থেকে ভালো।

কারণ, দ্বিতীয়তঃ

আপনার চ্যানেলের এবং ভিডিওর কুকিজ যতটা সম্ভব বেশি মানুষের ইউটিউব প্রোফাইল এর মধ্যে আপনাকে ঢোকাতে হবে। স্বাভাবিকভাবে অর্গানিক ট্রাফিকের মাধ্যমে। অথবা অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দিয়ে ইন অর্গানিক ট্রাফিক এর মাধ্যমে। অথবা মার্কেটিং করে পুশ ট্রাফিক আদায় করতে হবে। জোর করে। বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে দেখেছেন যে কোন নির্দিষ্ট চ্যানেলের ভিডিও যদি আপনি দেখেন তাহলে সেই চ্যানেলের ভিডিও গুলো বেশি বেশি মাত্রায় আপনার কাছে সাজেস্টেড করা হয়। একবারও যদি কোন চ্যানেলের ভিডিও দেখি তাহলে অন্তত তিন-চারটে সেই চ্যানেলের ভিডিও ওয়চ পেজে চলে আসে। ইউটিউব এর অ্যালগরিদম এই বিষয়টা আমরা সবাই নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছি। এর কারণ ইউটিউব এর কুকিজ এর মধ্যে ওই চ্যানেলের কুকিজ টি ও ব্রাউজারের মধ্যে অ্যাড হয়ে গেছে।

সুতরাং কনটেন্ট কিং অবশ্যই। মার্কেটিং কুইন অবশ্যই। কিন্তু কুকিজ ক্রাক করা ট্রাম্প কার্ড। আর ট্রাম্প কার্ড আপনাকে ফেলতে হবে।

এক ইঞ্চি জায়গা কেউ ছেড়ে দেয় না। ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর ইউটিউব আপনাকে এক বিন্দুও সাহায্য করবে না। ইউটিউব একটা রণক্ষেত্র। ইউটিউবার হওয়া মানে সেনাবাহিনীতে নাম লেখানো। আর যে কোনো যুদ্ধেই জিততে না পারা মানে শারীরিক বা মানসিকভাবে মৃত্যু। সুতরাং লড়াই লড়াই লড়াই চাই।

ক্রাক ইউটিউব কুকিজ অ্যালগরিদম।

39 টা এক্টর অন্ধকারে থাকলো অসুবিধা নেই একটা ফ্যাক্টর আমরা ক্র্যক করলাম। এবার এই একটা ফ্যাক্টর মানে কুকিস ফ্যাক্টর কে কজে লাগানোর জন্য চোখ নাক বুঝে মাত্র 15 দিন খেতে যান তো দেখি। ঠিকমত খেলতে পারলে আপনি ডোনারের স্নান করবেন। এটা আমার গ্যারান্টি।

ও হ্যাঁ। আপনি ইউটিউব এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা রোজগার করার স্বপ্ন দেখবেন ওদিকে তার ফাউন্ডেশন করার জন্য রাত দিন সময় দেবেন না, অথবা পাগলের মত পরিশ্রম করতে পারবে না এরকম মনোভাব থাকলে কিন্তু আপনার দ্বারা হবে না। ইউটিউব এবং অনলাইন কন্টেন্ট মার্কেটিং সবাই পারেনা কারণ পাগলের মতো পরিশ্রম করার ক্ষমতা সবার নেই, ওদিকে প্রিও দা পাই হবার স্বপ্ন আছে। একটু নৌকায় পা দিয়ে চললে হবে না।

ঠান্ডা মাথায় আপনিও চিন্তা করে দেখুন। যুক্তি সহকারে বলুন আমি কোন বিষয়ে ভুল বলছি কিনা। কারণ কোন ইউটিউব ওয়েবমাস্টার আমাকে এটা বলেনি। চিন্তা বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে আমি এই বক্তব্যটা নিজের মস্তিষ্ক থেকে আপনার সামনে পেশ করেছি। আমি 100% সঠিক এরকম দাবি আমি করতে পারছিনা, যতক্ষণ না পর্যন্ত আরো কতগুলো মাথা এই বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করছে।

সুতরাং ইউটিউবে সফল হবার রহস্যটা কুকিজ এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। আপনাকে এটা ক্র্যাক করতে হবে সফল হওয়ার জন্য।