পর্ণোগ্রাফি কেন চিরতরে বন্ধ করা যাচ্ছে না?

stop porn in bangladesh

বাংলাদেশের সব পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধ করতে ১৮ সালের শেষের দিকে হাইকোর্ট থেকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

দেশে পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব সাইট পুরোপুরি ব্লক করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিনের জন্য বন্ধ করা গেলেও পরবর্তীতে সাইটগুলো সচল হয়ে যায়।

পর্নো সাইট বন্ধ করতে না পারার পেছনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবও একটি বড় কারণ হতে পারে

পর্ণো সাইট কারিগরিভাবে শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে ৯০ ভাগ বন্ধ করা হয়তো সম্ভব।

বছর চারেক আগে সরকার প্রায় ৬০০টি পর্নো সাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। এই ঘোষণা সে সময় দ্রুত কার্যকর করে সংশ্লিষ্টরা। সে সময় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বলা হয়েছিল ৯০ শতাংশ সাইট বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তালিকার অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সাইট বন্ধ করতে সময় লেগেছিল কারণ, কিছু কিছু সাইট ক্লাউডে হোস্ট করা। ফলে আইপি ধরে ধরে সেগুলো বন্ধ করতে হয়েছে। দেখা গেল একটা আইপি ধরে বন্ধ করা হলো, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি আইপির মাধ্যমে ওই সাইট চালু হয়ে গেল।কারিগরি বিভিন্ন কারণে পর্নো সাইট বন্ধে কখনও পুরোপুরি সফল হওয়া যায় না।

এরপরও প্রক্রীয়াটা অব্যাহত আছে। বিভিন্ন ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বিশেষ করে জুয়া ও পর্ণ সাইটগুলো বন্ধ করার পর আবারও ভিপিএনের মাধ্যমে চালু করে ফেলা হচ্ছে। জুয়ার ওয়েবসাইট অনেকবার বন্ধ করার পরও তা লাইভ দেখা যাচ্ছে। তবুও এ যাবৎকাল ২০ হাজারের বেশি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে।

পুলিশের এগুলো খুব বিষদভাবে খেয়াল করার সুযোগ নেই পারার মহল্লায় হাজার হাজার সাইবার ক্যাফে। এগুলোর উপর নজরদারী করতে গেলে পুলিশের চোর-ডাকাত ধরা বন্ধ করে এসব কাজই করে বেড়াতে হবে।

মোবাইল এবং ইন্টারনেট মানুষকে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। আর কিশোর ও তরুণরাই এর বেশি ব্যবহারকারী। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।

আমি যখন ফিল্ডে কাজ করতাম তখনকার একটা অভিজ্ঞতা বলি। গ্রামের এক বাচ্চা ছেলেকে তাদের নিজেদের কম্পিউটার কম্পোজ করার দোকানে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখতে দেখে পেছনে যেয়ে দাঁড়ালাম। সে এতোই মগ্ন হয়ে পশু এবং নারীর ক্রীয়াকলাপ দেখছে যে আমাকে খেয়ালই করেনি। কম্পিউটার সীজ হলো। ছেলেটিকে হেফাজতে নেয়া হলো। অভিভাবক এলো। তার কাছে এটা তেমন গুরুতর বিষয় বলে নয় বলেই আমার মনে হলো। আজকাল ছেলে মেয়ের মোবাইল চেক করে দেখবেন- ৯০ টা মোবাইলেই আপনি যে পর্যায়ের পর্ণো পাবেন তাতে আপনার তিন দিন পর্যন্ত খাওয়ার সময় তা মনে পড়লে গলা দিয়ে খাবার নামবে না। সব কিছু পুলিশ আর প্রশাসন দিয়ে হয় না। পিতা-মাতা, বড় ভাই-বোনের শাসন বিহীন এই সমাজ ব্যবস্থা আমাদের কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা বোধ হয় আর ভাববার সময়ও নেই!